চুলের Growth বাড়াতে চান? এই ৫টি পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নিন
আপনিও কি চুলের Growth বাড়াতে চান?
আমাদের সকলেরই নিজেদের লম্বা ঘন ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল পছন্দ। কিন্তু বর্তমান সময়ে রাস্তাঘাটের দূষণ, মানসিক ডিপ্রেশন এবং অনিয়মিত জীবন যাপনের কারণে চুল পড়ে যাওয়া এবং চুলের ধীর বৃদ্ধি একটা দৈনন্দিন সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বে প্রায় ৬৫% থেকে ৭০% মানুষ এই হেয়ার ফলের শিকার। বাজারের নানা দামি প্রোডাক্ট ব্যবহার করেও মনের মত ফল পাওয়া যায় না। তবে দৈনন্দিন জীবনে যদি আপনিও চুলের গ্রোথ নিয়ে চিন্তিত হন, তবে সময় এসেছে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সাধারণ এবং কার্যকরী পরিবর্তন আনার।

আজকের এই ব্লগে আমরা আপনার সাথে এমন ৫টি পরীক্ষিত পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করব যা আপনার চুলের বৃদ্ধি বা হেয়ার গ্রোথ করতে দারুণ সাহায্য করবে।
১. পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু ডায়েট :

চুলের মূল উপাদান হলো Keratin নামক একটি প্রোটিন. তাই শুধুমাত্র চুলের যত্ন বাইরে থেকে নিলেই হবে না ভেতর থেকেও চুলকে পুষ্টি জোগাতে হবে। নিজের প্রত্যেক দিনের খাদ্যের তালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন যেমন ডিম, মাছ সয়াবিন, ডাল এগুলো যুক্ত করুন। এর পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত করতে বায়োটিন, ভিটামিন-E, আইরন এবং ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার যেমন কাঠ বাদাম, আখরোট, পালং শাক, ফ্লেক্স সীড এসব খেতে শুরু করুন।
২. চুলে অয়েল ম্যাসাজ এবং স্ক্যাল্পের যত্ন :

চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়ানোর জন্য অয়েল ম্যাসাজের থেকে ভালো কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক সপ্তাহে অন্তত ২ দিন তেলকে হালকা গরম করে (নারকেল তেল, জোজোবা কিংবা আমন্ড অয়েল), মাথায় ১০-১৫ মিনিট ভালো করে ম্যাসাজ করুন। মাথার স্ক্যাল্প খুশকিমুক্ত এবং পরিষ্কার রাখতে তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা টি-ট্রি (Tea Tree) এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। চুলের আর্দ্রতা এবং গ্লোও ধরে রাখতে আর্গান অয়েল(Argan Oil) যুক্ত হেয়ার সিরাম ব্যবহার করতে পারেন। মনে রাখবেন, চুলের গোড়া যত পরিষ্কার থাকবে সেখান থেকে ততো ভালো চুল উঠবে।
৩. পারফেক্ট হেয়ার কেয়ার :

প্রত্যেক ব্যক্তির চুলের ধরণ আলাদা হয়। চুলের ধরণ অনুযায়ী সঠিক শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার বেছে নেওয়া খুবই জরুরি। অতিরিক্ত সালফেট যুক্ত শ্যাম্পুর বদলে মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার শুরু করুন। যদি অতিরিক্ত খুশকি থাকে তাহলে সপ্তাহে ১-২ বার অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। চুল ধোবার পর অবশ্যই কন্ডিশনার লাগাবেন। এর সাথে, নিয়মিত স্ট্রেইটনার, কালার বা ব্লো-ড্রাইয়ার মতো হিট স্টাইলিং টুল থেকে দূরে থাকুন, কারণ এগুলো চুল রুক্ষ করে ভেঙে দেয়।
৪. সঠিক সময় চুল ট্রিম :

অনেকের ধারণা যে চুল কাটলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এই কথাটা একদমই ভুল। যদি আপনি হেয়ার-ফলের শিকার হয়েছেন তাহলে একটা কাজ করতে পারেন। প্রতি ২-৩ মাসে একবার ছোট করে হলেও চুল ট্রিম করিয়ে নেবেন। এতে করে আপনার চুলের ডগের ফাটার জন্য হেয়ার গ্রোথ আটকাবে না। এতে করে আপনার হেয়ার-ফল কমবে না ঠিক, কিন্তু আপনার চুলের Length আরো বাড়বে। চুলের ডগা ফেটে গেলে সেটা চুলের Length এর বৃদ্ধি আটকে দেয়।
৫. স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ ও পর্যাপ্ত ঘুম:

বিজ্ঞানের রিসার্চ অনুযায়ী, অতিরিক্ত মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম কারণ। মানসিক চিন্তার কারণে চুলের ফলিকলগুলো ‘রেস্টিং ফেজ’-এ চলে যায়, ফলে নতুন চুল গজানো কমে যায় এবং চুল বেশি ঝরে। তাই প্রত্যেক দিন অন্তত ৭-৮ ঘন্টার শান্তির ঘুম দরকার। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত মেডিটেশন, যোগব্যায়াম বা নিজের পছন্দের কিছু করে সময় কাটাতে পারেন।
চুলের যত্ন কোনো রাতারাতি ম্যাজিক এর ব্যাপার না, এর জন্য দরকার সঠিক পরিচর্যা এবং ধৈর্য। ওপরের এই ৫টি নিয়ম নিয়মিত মেনে চললে আপনার চুলের পরিবর্তন ইতিবাচক দিকেই যাবে। আজ থেকেই শুরু করে দিন আপনার চুলের যত্ন নেওয়া এবং এই ধরনের আরো টিপস পেতে চোখ রাখুন Healthfity-এ।